Education

পূর্ণাঙ্গ সিভি তৈরির কৌশল

 সিভি একটি ইংরেজি শব্দ। CV এর পূর্ণরুপ হলো – Curriculum vitae. এর বাংলা অর্থ হলো – জীবনবৃত্তান্ত। তবে আমরা সবাই ইংরেজি সিভি নামেই বেশি সম্বোধন করি। জীবনবৃত্তান্ত হলো চাকরির জন্য আবেদনকারীর যোগ্যতা,  দক্ষতা, চাকরির পূর্ব অভিজ্ঞতা, শিক্ষা প্রভৃতির আনুষ্ঠানিক উপস্থাপন।

একটা সিভি বানানোর উপরে তোমার চাকরী পাওয়া না পাওয়ার অনেকটা নির্ভর করে। নিয়োগকর্তা সিভি দেখে অনেক কিছু যাচাই করে। আর সিভিতে কখনো ভুল তথ্য দেয়া যাবে না। কেননা নিয়োগকর্তা আপনার তথ্য যাচাই-বাছাই করার আইনগত অধিকার রাখেন। 

সিভি লেখার সঠিক নিয়ম

পরিচয় ও ঠিকানা

প্রথমে আবেদনকারীর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সনদপত্রে যে নাম লেখা আছে সে অনুসারে পুরো নাম লিখতে হবে। ঠিকানা লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই বর্তমান ঠিকানা লিখতে হবে যাতে সেখানে প্রার্থীকে থেকে চিঠির মাধ্যমে পাওয়া যায়। সাথে মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এড্রেস দিতে হবে।

পূর্ব অভিজ্ঞতা

আবেদনকারী পূর্বে কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে সেই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে উল্লেখ করতে হবে। 

শিক্ষাগত যোগ্যতা

অবশ্যই আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে লিখতে হবে। কোন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন, প্রতিষ্ঠান, ফলাফল লিখতে হবে। ক্রমান্বয়ে বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল পর্যন্ত উল্লেখ করতে হবে। কোন বৃত্তি ,পুরস্কার বা শিক্ষাগত সম্মান পেয়ে থাকলে উল্লেখ করতে হবে।

কোন পদে আবেদন করবেন

কোন পদে আবেদন করবেন এবং কেন করবেন কিভাবে কোম্পানির তাতে উপকার হবে তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে লিখতে হবে। ক্যারিয়ার আপনার লক্ষ্য ও আপনার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে হবে।

প্রশিক্ষণ

কোন বিষয়ে আপনার বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকলে সে বিষয়ে উল্লেখ করতে হবে। যেমন- কম্পিউটারে কোন প্রশিক্ষণ, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল, মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইনিং, জাভা স্ক্রিপ্ট প্রভৃতি বিষয়ে কোনো দক্ষতা থাকলে সে বিষয়ে উল্লেখ করতে হবে।

ব্যক্তিগত তথ্য

এ অংশে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, ধর্ম, জাতীয়তা, বৈবাহিক অবস্থা, রক্তের গ্রুপ উল্লেখ করতে হবে।

ছবি যুক্ত করতে হবে

অবশ্যই বর্তমান ছবি দিতে হবে । এমন ছবি দিতে হবে যাতে আপনার চেহারা ভালোভাবে বোঝা যায়।

ভাষাগত দক্ষতা

আপনার যে যে ভাষা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলতে ও লিখতে পারেন সে বিষয়ে উল্লেখ করতে হবে। এতে আপনাকে এক ধাপ এগিয়ে রাখবে।

স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ

আপনি যদি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকেন সে বিষয়ে উল্লেখ করতে হবে বা কাজ করেছেন সেটা উল্লেখ করতে হবে।

রেফারেন্স

রেফারেন্স অবশ্যই সিভিতে উল্লেখ করতে হবে এটি সিভির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের কোন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করতে পারেন। তাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করতে হবে। যাতে তাদের কাছ থেকে এ তথ্যগুলো  সম্পর্কে ভালোভাবে জানা যায়।

স্বাক্ষর ও তারিখ

সিভিলেখা শেষে আপনার নামের স্বাক্ষর ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে।
আশা করি এভাবে সিভি লিখলে আপনার সিভি একটি পূর্ণাঙ্গ সিভি হিসেবে পরিগণিত হবে।
https://www.incometips.xyz/feeds/posts/default

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button